top of page

আমরা বাঙালি # ৯ #

  • 17 hours ago
  • 7 min read

প্রিয় রঙ?”

রঞ্জন উত্তর দেবার আগেই , অঞ্জন পাশ থেকে ফুট কাটলো - “ভালো করে ভেবে বলিস, পছন্দের কারণ টা কি ? কারণ টা গভীর হতে হবে।”


গতানুগতিক সপ্তাহান্তের আড্ডা আজ একটু অন্যরকম। আজ হটাৎ রানা দাবি করেছে, ও একটা খেলা খেলাবে।পাঁচমেশালি আড্ডার নিয়ম ভেঙে। খুব সহজ খেলা। রানা তিনটে প্রশ্ন করবে সবাই কে আর সেই তিনটে প্রশ্নের উত্তর থেকে ও সবার চরিত্র নির্ধারণ করে দেবে। শুধু একটাই শর্ত, উত্তর গুলোর যুক্তির পেছনে যথার্থ গভীর কারণ থাকতে হবে। বউয়ের লাল রঙ ভালো লাগে বলে , আমার ও লাল বা সমুদ্রের রঙ নীল তাই নীলের উপর ভালোবাসা- এই ধরনের উত্তর দেওয়া যাবে না।


খেলার নিয়ম শুনেই ছ-জনের মধ্যে তিন জন বেঁকে বসলো।খেলব না। এমনিতেই আজকাল আড্ডার পরিসর ও কলেবর ছোট হয়ে আসছে আর আড্ডার মধ্যেও লোকজন মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যায়। গান বাজনা, প্রাণ খোলা হাসি , খেলা, রাজনীতি, সিনেমা নিয়ে তুমুল তর্ক বা নেহাতই কোনো কারণ ছাড়া খোশগল্প- পুরনো দিনের আড্ডার সেই আমেজ টাই হারিয়ে গেছে। রানার প্রস্তাব সেই পুরনো দিনের স্মৃতি কে ফিরিয়ে আনার প্রয়াস না কি নতুন কোনও বুজরুকি, সেটা নিয়ে বাঙালি বেশ কিছুটা সন্দিহান। এই যেমন মাঝে মাঝে রানা দাবি করে , যে কোনও মানুষের হারিয়ে যাওয়া জিনিস খুঁজে দিতে পারে। গুমোট গরমের মধ্যে এক লহমায় বৃষ্টিও নিয়ে আসতে পারে। এই রকম আর কি !!!


এমনিতেই নিজের ইমেজ নিয়ে বাঙালি বরাবর একটু বেশিই রকমের খুঁতখুঁতে । নিজেকে, অন্যের সামনে আগলহীন করার ঘোর বিরোধী । নিজের ভালোলাগার কোনও কিছুর পিছনে গূঢ় যুক্তির সন্ধান সে ভাবে কোনও দিন খোঁজে নি আর তাই খেলার মধ্যে দিয়ে নিজের জীবনের গুপ্ত রহস্য সবার সামনে উন্মোচন হবার ক্ষীণ সম্ভাবনা কে অঙ্কুরে বিনাশ করে বাঙালি বলে উঠল - “আমার তো এমনিই কালো রঙ ভালো লাগে । এর মধ্যে ভাই কোনও কারণ নেই । নীল জিনসের সাথে কালো জামার কোনও বিকল্প নেই”।


অঞ্জন ও সুবীর দুজনেই নিজেদের কে খেলার থেকে দূরে রেখেও বাঙালি কে বোঝানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। কালো রঙের পোশাক পড়তে ভালো লাগে আর তাই কালো রঙ প্রিয়- এই রকম ছেদো যুক্তির পিছনে নিশ্চয়ই কোনও গভীর কারণ আছে। খেলা টা যখন মোটামুটি শুরুতেই বন্ধ হবার উপক্রম , সেই সময় রঞ্জনের স্বপ্রণোদিত উত্তর- “আমি খেলব।”


বন্ধুমহলে অকৃতদার রঞ্জনের একটা বিশেষ পরিচয় হলো - গাঁট । অবলীলায় যে কোনও কথার রেশ ধরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তর্ক করে যেতে পারে কোনও যুক্তি ছাড়াই । রঞ্জনের খেলতে রাজি হওয়া মানে , আজকের আড্ডা একটা পরিপূর্ণ বিনোদন হবে। বাঙালিও খুশি। আড্ডার নির্ভেজাল আমেজ উপভোগ করতে পারবে অথচ সেই আড্ডার মধ্যমণি হতে হবে না ।


-“এবার দ্বিতীয় প্রশ্ন ।”

-“আরে রঞ্জন তো প্রথম প্রশ্নের উত্তর দিল না । তুই এর মধ্যে আবার দ্বিতীয় প্রশ্ন আনলি কেন ?” সুবীর একদম শুরু থেকে বিনোদন পেতে চায়।

-“সব প্রশ্নের উত্তর আর যুক্তি একসাথে শুনব । যাতে তোদের মনে না হয় , ওর উত্তর আর যুক্তি বুঝে আমি দ্বিতীয় প্রশ্ন করছি। একসাথে সব প্রশ্নের উত্তরের যুক্তি দিয়ে রঞ্জনের চরিত্র আঁকবো।”


আজ মনে হচ্ছে বড় বুজরুকি দেখতে চলেছি । বাঙালির স্বগোক্তি।


-“প্রিয় জন্তু।”

-“এটা দ্বিতীয় প্রশ্ন?” অবাক চোখে রঞ্জন রানাকে জিজ্ঞাসা করে।

-“হ্যাঁ । তবে তোর কুটুস ছিলো বলে , প্রিয় জন্তু কুকুর , এটা কিন্তু উত্তর হতে পারে না ।”

-“কেন হবে না ?” । রঞ্জন মাঠে নেমে পড়েছে । ব্যস, তার মানে আর তৃতীয় প্রশ্ন অব্দি যেতে হবে না । শুরু হয়ে গেছে রঞ্জনের লড়াই। যে কোনও নিয়মের প্রতিবাদে অদ্ভুতুরে যুক্তির অবতারণা রঞ্জনের সহজাত প্রতিভা।

-“আমি যেহেতু খেলা টা খেলাচ্ছি, তাই আমি যেটা বলব সেটাই হবে। জন্তুর সাথে তোর সম্পর্কের থেকে , এখানে জন্তু টা মুখ্য ব্যাপার। তোর পছন্দের জন্তুর মধ্যে তুই কি খুঁজে পাস যার জন্য ওই জন্তু টা কে ভাললাগে সেটা বলতে হবে।”

-“এবার থার্ড প্রশ্ন টা কর।” সবাই কে অবাক করে , কোনও তর্ক ছাড়াই রঞ্জনের গম্ভীর জবাব।


বাঙালি অবাক হয়ে ভাবে , রঞ্জনের ভাবনায় এত স্পষ্টতা! বাঙালি নিজের মনে মনে জিজ্ঞাসা করে, প্রিয় জন্তু? ঠিক পরিষ্কার উত্তর পাচ্ছে না। একবার মনে হচ্ছে বিড়াল, তারপর হাতি, তারপরেই মনে হলো বাঘ। খরগোশ, জিরাফ, সিংহ । সবাই কেই তো ভালো লাগে । সবচেয়ে ভালো লাগে কাকে? সত্যি তো সেই ভাবে কোনও দিন ভাবে নি। ভাগ্যিস নিজেকে খেলার থেকে প্রথমেই সরিয়ে নিয়েছি। নইলে, সবার সামনে নিজের ভাবনার দারিদ্রতা উলঙ্গ হয়ে যেত।


-“শেষ প্রশ্ন। জল, বরফ আর বৃষ্টির মধ্যে জলের কোন অবস্থা কে ভালো লাগে?”

-“বরফ। এর মধ্যে কোনও দ্বিমত নেই।” অঞ্জন আর সুবীর একসাথে বলে উঠেছে। মদের উপর রঞ্জনের ভালোবাসার গভীরতা এত বছর ধরে দেখে এসেছে সবাই, তাই বরফ ছাড়া অন্য অবস্থা কে কোনও ভাবেই ভালোবাসা সম্ভব নয়।

-“না , এটা কোনও যুক্তি হতে পারে না।” এবার বাঙালিও খেলার মধ্যে ঢুকে পড়েছে।


রানাও বাঙালির সাথে একমত। গভীর কারণ থাকতে হবে। বস্তুবাদী আনন্দ কোনও কারণ হিসেবে গণ্য হবে না। অন্তর্নিহিত অর্থ খুঁজতে হবে।


-“হ্যাঁ, সব প্রশ্নের অন্তর্নিহিত উত্তর আমার কাছে আছে ।” রঞ্জন বদ্ধপরিকর। রানাকে নিজের সাইক্রিয়াটিস্ট ভেবে বসেছে বলে মনে হচ্ছে। খেলার ক্লাইম্যাক্স। বাঙালির চোখ বড়বড়।

-“তাহলে এবার উত্তরের পালা শুরু হোক।” অঞ্জন আর তর সইতে পারছে না।

-ওকে একটু ভাবতে তো সময় দিতে হবে। ও কি আজ সকাল থেকে এইসব প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে বলে পরীক্ষার পড়া মুখস্ত করে এসেছে না কি ?”। সুবীর এবার রঞ্জন-পক্ষ।

-“আমি কোনোদিন মুখস্থ করে পরীক্ষা দেই নি।” রঞ্জনের তীব্র প্রতিবাদ।


রঞ্জন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। কলেজ জীবনে সারাক্ষণ তাস, নেশা ও ঘুমের মধ্যে নিজেকে আবদ্ধ রেখে বন্ধুদের সাথে বাজি ধরে প্রথমবারের চেষ্টা তেই আইআইএম জোকা। রঞ্জনের প্রতিবাদ কে কোনও রকম ভুল প্রমাণ করার অবকাশ নেই।


উত্তরের মধ্যে দিয়ে রঞ্জনের চরিত্র খুঁজতে গিয়ে আলোচনা অন্য দিকে মোড় নেবার আগেই বাঙালি সবাই কে শান্ত করে - “রঞ্জন কে ওর মতন করে বলতে দে। আমরা না হয় একটু চুপ থাকি।”

-“আকাশি। হালকা নীল আকাশ মানে আমার দৃষ্টির কোনও বাধা নেই । Infinity । কোনও ভাবনার বাধা নেই।” - সবাই অবাক। রঞ্জনের দৃপ্ত উত্তরে রানা মিটিমিটি হাসে।

-“ইয়ার্কি হচ্ছে ? অসীমতা খুঁজতে বসেছি কি আমরা ? আমরা কি গরু গাধা? আকাশি রঙ কবে থেকে মহাশূন্যের প্রতীক হলো?” - অঞ্জন ক্ষোভে ফেটে পড়েছে।


সুবীর ও বাঙালি এবার অঞ্জন পক্ষ। প্রায় মিনিট দশেক ধরে যুক্তি ও পালটা যুক্তি চলল গরু-গাধা-আকাশি-গেরুয়া-মহাশূন্য-চোখের দৃষ্টি- অবান্তর ভাবনা-ঈশ্বর-নাস্তিকতার হাত ধরে। দু-পক্ষই অনড় তাঁদের অবস্থানে।


-“তার মানে তুই ফ্রিডম খুঁজিস সব সময় । স্বাধীনতা । নিজেকে কোনও কিছুর মধ্যেই আটকে রাখতে চাস না।” রানা বেশ একটা গম্ভীর গলায় নতুন দৃষ্টিকোণ হাজির করেছে।


সত্যি তো , রঞ্জন তো নিজেকে সম্পূর্ণ ভাবে স্বাধীন দেখবে বলে বিয়ে করল না কোনদিন । নেশার সাথে আপোষ করবে না বলে, ওপেন হার্ট সার্জারির পরেও সিগারেট, মদ, শিবের প্রসাদ কোনওকিছুর থেকেই নিজেকে বিরত রাখে নি।

সুবীর,অঞ্জনের চোখ চকচক করছে । বাঙালির মনে ধরছে খেলা টা।


-“আরে , এটাই তো এতক্ষণ ধরে বোঝাতে চাইছিলাম। আপোষহীন চরিত্রের রঙ আমার কাছে আকাশি। মহাজগতের সবচেয়ে দূরের গ্রহ টাকে আমি দেখতে পাই ওই আকাশি রঙের মধ্যে। একমাত্র আকাশ পরিষ্কার থাকলেই আমার ভাবনায় আমি ওই গ্রহ তে পৌঁছে যেতে পারব। পরিষ্কার আকাশের রঙ হলো আকাশি” - প্রচণ্ড উত্তেজিত হয়ে এক নিশ্বাসে আত্মপক্ষ সমর্থন করে ঘেমে উঠেছে রঞ্জন।


এই রকম আবেগপ্রবণ যুক্তির পর, বাকিদের চুপ করে যাওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।


-“কুটুস আমার প্রিয় বলে নয় , কুকুরই আমার প্রিয় জন্তু। কুকুরের থেকে বিশ্বস্ত এবং আনুগত্য কারুর নেই। আর তোরা যদি এই আনুগত্য কে গভীর ভাবনা বলে ভাবতে না পারিস তাহলে তোদের ভাবনার গভীরতা নিয়ে আমাকে ভাবতে হবে”। রঞ্জন আজ দারুণ ফর্মে। বল মাটিতে পড়ার আগেই বাপি বাড়ি যা। ও কাউকে আর কোনও সুযোগ দিতে চায় না। বিতর্ক সভায় প্রতিপক্ষ কে এমন ভাবে আক্রমণ করতে হবে যাতে প্রতিপক্ষ কোনো ভাবেই ফিরে আসতে না পারে।

-“সে তো বুঝলাম, কিন্তু এর সাথে রঞ্জনের চরিত্রের কি মিল সেটা তো বোঝা গেল না।” - বাঙালি মৃদু গলায় নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে।

“বোঝানোর দায়িত্ব তো আমার নয়। আমার উত্তর দেবার কথা ছিলো ও সেই উত্তরের পেছনের যুক্তি টা গভীর হতে হবে। বাকি কৈফিয়ৎ রানা দেবে।”


চার জোড়া চোখ রানার দিকে।


-“আনুগত্য ও বিশ্বস্ততার মধ্যে থাকে বন্ধুত্বের বন্ধন। আমার মনে হয় কুকুরের মধ্যে রঞ্জন বন্ধুত্বের সেই অনুভূতি টা খুঁজে পায়। একাকী জীবনে বন্ধুত্বের প্রভাব অনেক বেশি, আর তাই রঞ্জনের জন্য বন্ধু শব্দ টা অনেক প্রগাঢ়।” - রানার বিশ্লেষণে সবাই মোহিত। সত্যি তো, রঞ্জনের জীবনে বন্ধু ছাড়া তো আর কোনও সে রকম সম্পর্ক নেই যেখানে রঞ্জন নিজেকে উজাড় করে দিতে পারে।


রঞ্জনের চোখের মিষ্টি সারল্য যেন আবার করে সবাই দেখতে পেল। তার সাথে রানার বেশ একটা জয়ী জয়ী ভাব !

-“শেষ প্রশ্নের উত্তর টা আমার হয়ে তোরাই আগে দিয়ে দিয়েছিলিস।” লজ্জা লজ্জা মুখ নিয়ে রঞ্জন বলে চলে, “বরফ টা ঠিক ই বলেছিলিস। তবে সেটা মদের সময় লাগে বলে নয়। আমি গরম একদম পছন্দ করি না । বরফের ঠান্ডা টা আমার বড় প্রিয়”।

-“সেই তো ঘুরে ফিরে বস্তুবাদী উত্তর।” - সুবীর এবার সরব।

-“নিজেকে ভালো রাখার থেকে গভীর ভাবনা অন্য কিছু হয় কি? সকাল থেকে রাত অব্দি আমরা যা যা করি তার সব কিছু নিজেকে ভালো দেখা ও রাখার জন্য।”

-“বাজে কথা। তোর পরিবার নেই তাই এটা বলছিস। তোর যদি আরও অনেক দায়িত্ব থাকত তাহলে দেখতিস, নিজেকে নয়, সেই সম্পর্ক গুলো কে ভালোরাখার জন্য তুই পরিশ্রম করতিস, নিজের আরাম কে মাথায় তুলে।”

-“বেশ তোর কথা মেনে নিলাম । তোর আশে পাশের সম্পর্ক গুলো ভালো থাকলে তোর কেমন লাগবে?”

-“অবশ্যই ভালো লাগবে”।

-“তারমানে ঘুরে ফিরে সেই নিজেতেই ফিরে আসা। নিজের শান্তি, নিজের আহ্লাদ, নিজের মনের ফুর্তি, নিজের জীবন কে নিজের মতন খুঁজে পাওয়া। বাবা-মা, ছেলে মেয়ে, আত্মীয় স্বজন কে ভালোরাখার মধ্যেই নিজের জীবনের পরিপূর্ণতা। নিজের ভালো থাকা অন্যের ভালো থাকার মধ্যে দিয়েই আসে আর তাই সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নিজেকে সরিয়ে কিছু ভাবা সম্ভব নয়”। রঞ্জনের দার্শনিক চিন্তার প্রকাশ সুবীর কে চুপ করিয়ে দেয়।


পঁচাশি কেজির শরীর টা নিয়ে নড়াচড়া বিশেষ পছন্দ নয় রঞ্জনের। ডাক্তার ও বন্ধুবান্ধব যতই ওকে যতই হাঁটাচলা করার সু-পরামর্শ দিক, রঞ্জন খুব সুন্দর ভাবে সেটা কে এক কান দিয়ে ঢুকিয়ে অন্য কান দিয়ে বার করে এসেছে। তাই নিজের শরীর কে আরাম দেবার অছিলায় আরামপ্রিয় চরিত্রের ব্যাখ্যা বরফ যে হবে সেটা কে আলাদা করে বোঝানোর দরকার পরে নি রানার।


-“গরমে আমার থেকে বেশি কষ্ট কি তোরা পাস?” - রঞ্জনের নিষ্পাপ হাসি ও প্রশ্নে সবাই হো হো করে হেসে ওঠে। অনেক দিন বাদে প্রাণবন্ত আড্ডার রেশ ধরে সপ্তাহের শেষ দুটো দিন ভালোই কাটবে সবার।


বাড়ি ফেরার পথে, বাঙালি এবার নিজের সাথে তিন প্রশ্নের খেলাতে মগ্ন । আশে পাশে কেউ নেই। মনের আগলহীন ভাবনা কেউ জানতেও পারবে না। শেষ থেকে শুরু করলে কেমন হয়!


জল জীবন দেয়, বরফ মন কে শীতল করে, কিন্তু বৃষ্টি? প্রেমিক বাঙালি বৃষ্টিকেই আঁকড়ে ধরে থাকে। গরম মাটিতে প্রথম বৃষ্টির সোঁদা গন্ধ, শেষ রাতের অঝর বৃষ্টি, প্রথম প্রেমে একসাথে ভেজার স্মৃতি বা মেঘলা দিনে অবসাদগ্রস্ত মনে সৃষ্টির আনন্দ- বৃষ্টির সাথে বাঙালির সহবাস। সৃজনশীল বাঙালির প্রেমিক চরিত্র বৃষ্টির মধ্যেই নিজেকে খুঁজে পায়, কল্পনার জগতে পাড়ি দিয়ে।


ছোটবেলার চিড়িয়াখানা থেকে বড়বেলার ডিসকভারি চ্যানেল। এত জন্তুর মধ্যে কাকে সত্যি নিজের মনের মতন লাগে? অনেক ভাবনা চিন্তার পরে এসে দাঁড়ায়- রয়েল বেঙ্গল টাইগার। নাহ, কোনদিন চাক্ষুষ দেখার সুযোগ হয়নি, কিন্তু বাঙালির মননে রাজকীয় চলাফেরার সৌন্দর্যের ছবি চিরদিনের মতন জায়গা করে নিয়েছে। নিজের মধ্যবিত্ত ভাবনার মধ্যেই বাঙালি আপন করে নিয়েছে রাজকীয় সম্মান। প্রিয় জন্তুর ভালোবাসার মধ্যে অন্তর্নিহিত আবেগ বোধহয় সেই রাজকীয় স্বাদ পাবার অলীক কল্পনা।


ঘণ্টা দুয়েক আগেও বাঙালির নিজেকে নিয়ে এতটা পরিষ্কার ধারণা ছিল না। মনে মনে একটু হাসে বাঙালি। নিজেকে প্রশ্ন না করে এড়িয়ে যাওয়া এটা কি শুধু ওর নিজের চরিত্র না পুরো বাঙালি জাতির ? অস্পষ্ট অবয়ব ও মাপা হাসি চাপা কান্নার মধ্যে নিজেকে লুকিয়ে রাখতে চাওয়া বিভ্রান্ত এক মানুষ।


সবুজ দিগন্তের হাতছানি, লাল সিঁদুরের ভালোবাসা , গোলাপি পেলবতা, গেরুয়া আধ্যাত্মিকতা, সাদার পবিত্রতা পেরিয়ে কেন জানি বারবার সেই কালো তেই আটকে যাচ্ছে বাঙালি। দুঃখবিলাসী মানুষের রঙ কি তাহলে কালো ? মৃত্যু কি কালো ? ভয় কি কালো ? শক্তি কি কালো ? হতাশার রঙ কি কালো ? মানুষের জীবনের অনু পরমাণুর মধ্যে লুকিয়ে থাকা কার্বনের রঙ ও তো কালো। সেই অর্থে জীবনের সৃষ্টির রঙ তাহলে কালো। না কি সব রঙ যেখানে গিয়ে মিলিত হয় , সেই রঙের নাম কালো? আশে পাশের ছড়িয়ে থাকা সম্পর্কের মধ্যে খুঁজে পাওয়া অনুভূতির প্রতীক সেজে ওঠে কালো। সম্পর্কের প্রতিটি রঙ মিলিয়ে যায়, জীবনের পরিপূর্ণতায়।


পদার্থবিজ্ঞানের ভাষাতে মহাজাগতিক ম্যাজিক - The Black Hole! সৃজনশীল , অসহায় বাঙালিও ম্যাজিক খুঁজছে কালোর হাত ধরে…..তিন প্রশ্নের বুজরুকি ম্যাজিক হয়ে বাঙালির চরিত্র আঁকতে শুরু করেছে নতুন করে নিজেকে চেনাবে বলে……


Comments


©2020 by Hizibizi Online

bottom of page